ইরানকে গোপনে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সি৪৩০এল সাংকেতিক নামে এই গোপন সামরিক কর্মসূচিটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মূলত জাহাজবিধ্বংসী ও স্থলভাগে হামলার উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়া যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২৩ সাল থেকে রুশ অস্ত্র রপ্তানি কর্মকর্তা ও এনপিও মাশিনোস্ট্রোইনিয়ার জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীরা বেশ কয়েকবার ইরান সফর করেছেন। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের প্রধান নকশাবিদ আলেকজান্ডার দেরগাচেভ, এয়ার-ব্রিদিং প্রপালশন ইউনিটের নকশা প্রধান আলেকজান্ডার চেবাকভ এবং অ্যারোডাইনামিকস ও ব্যালিস্টিকস বিভাগের প্রধান ইউরি প্রোখোরচুক। এছাড়া রোসোবোরোনএক্সপোর্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও মহাকাশ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ কুজমিচেভও ইরানে গিয়ে সি৪৩০এল চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রযুক্তি হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালের মধ্যে ইরান থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত নথি ও উপকরণ সংগ্রহ করে রুশ প্রকৌশলীরা সেগুলোর বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেন। এফটির হাতে আসা ২০২৫ সালের এপ্রিলের একটি চিঠিপত্রে দেখা যায়, রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ইরানে রুশ বিশেষজ্ঞদের আরেকটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং সফরের আগে তেহরানকে প্রকৌশলীদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ জানান, কেবল নকশা বা যন্ত্রাংশ নয়, বরং অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সরাসরি মাঠে পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের যুদ্ধ ও আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মস্কোর অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মস্কো ও তেহরান সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত একতরফাবাদ প্রতিহত করতে সক্ষম। চাকরির আরও তথ্য: বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: সফরের আগে রুশ প্রকৌশলীদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বলেন, কিন্তু ৬০ বছর বয়সী একজন প্রকৌশলীকে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানে পাঠানোও অত্যন্ত মূল্যবান।



