গাজায় প্রেরিত কাতারের সরকারি অর্থ হামাস ও তাদের সামরিক শাখার কাছে পাচার বা অপব্যবহারের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে কাতার। সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্কারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দোহা এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েল-এর বরাতে জানা গেছে, নিবন্ধটিতে ইসরায়েলের জব্দকৃত নথিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, ২০১৯ সালে হামাসের এক নেতা কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, কাতারের অনুদানই হামাসের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলায় কাতারের অর্থের ভূমিকা ছিল এবং হামাসের সুড়ঙ্গগুলোতে থাকা আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামাদি এই অর্থায়ন থেকেই এসেছিল।
এই প্রতিবেদনকে দেশটির বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত অপতথ্য প্রচারণার অংশ বলে অভিহিত করেছে কাতার। দেশটির সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর পেছনে কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। কাতারের ভাষ্যমতে, গাজায় পাঠানো তাদের যাবতীয় মানবিক সহায়তা দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেই কার্যকর করা হয়েছে।
কাতার জোর দিয়ে বলেছে, গাজায় প্রবেশ করা খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তার প্রতিটি চালান ইসরায়েলি নজরদারির মধ্য দিয়ে গেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। দোহা আরও জানায়, এই পুরো প্রক্রিয়াটি তিন দফায় ভিন্ন ভিন্ন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর আমলে পরিচালিত হয়েছে। ফলে যদি কোনো তহবিল হামাসের কাছে পৌঁছেও থাকে, তবে তার দায়ভার কাতার নিতে পারে না, কারণ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাটি ইসরায়েলই তদারকি করেছে।
কাতার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, যারা এই মিথ্যা অভিযোগগুলো ছড়াচ্ছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং বিভেদ উসকে দেওয়া। এর মাধ্যমে তারা চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তোলার চেষ্টা করছে বলে দোহা অভিযোগ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় কাতারের অর্থ কীভাবে কাজে লেগেছিল, তা প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামাসের যোদ্ধারা বিশাল এক সুড়ঙ্গব্যবস্থায় জড়ো হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সুড়ঙ্গগুলোতে ছিল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।



