ফোর্বসের বর্ষসেরা ট্রাভেল লিডার: কাতারের তিন শীর্ষ নির্বাহীর সাফল্য

, বিশ্ব

ফোর্বসের বর্ষসেরা ট্রাভেল লিডার: কাতারের তিন শীর্ষ নির্বাহীর সাফল্য

মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন, এভিয়েশন এবং আতিথেয়তা শিল্পের বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফোর্বস মিডল ইস্ট ‘টপ ১০০ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম লিডার্স ২০২৬’ তালিকা প্রকাশ করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পাওয়া কাতারের তিন শীর্ষ নির্বাহী নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাতারের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

১. হামাদ আল খাতার – কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপ

  • পদবি: গ্রুপ সিইও
  • অবস্থান: সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের তালিকায় সার্বিকভাবে ২য় স্থান।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে কাতার এয়ারওয়েজ বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ তাদের নেটওয়ার্ক ১৮৩টি গন্তব্যে বিস্তৃত হয়েছে এবং ৩১৩টি বিমানের বহর পরিচালনা করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রুপটি ৪ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে ২৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এবং ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া বোয়িং ও জিই অ্যারোস্পেসের সাথে বড় অঙ্কের চুক্তি স্বাক্ষর তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তিনি পূর্বে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিওও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. আব্দুল আজিজ আলী আল-মাওলাউই – ভিজিট কাতার

  • পদবি: সিইও
  • অবস্থান: পাবলিক সেক্টর ক্যাটাগরিতে ১৯তম।

২০২৪ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি কাতারের পর্যটন প্রসারে গতিশীল ভূমিকা রাখছেন। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫১ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৭ শতাংশ বেশি। আতিথেয়তা খাতে ১ কোটি ৮ লাখ রুম-নাইট বিক্রি থেকে ২৩০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ২৩ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক কাতার সফর করেছেন। পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়নে জুন মাসে চীন সফরের সময় তিনি ‘ফ্লিগি’ ও ‘হুয়াওয়ে’-এর সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

৩. তারেক এম. এল সায়েদ – আল রায়ান ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (ARTIC)

  • পদবি: ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও
  • অবস্থান: হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস ক্যাটাগরিতে ৩৩তম।

২০০১ সালে আল ফয়সাল হোল্ডিংয়ে যোগদানের পর ২০১৭ সালে তিনি আর্টিকে (ARTIC)-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্যমতে, তিনি দোহা, কায়রো, রোম, ইস্তাম্বুল, বার্লিন ও মায়ামিসহ ১৪টি শহরে ৩০টি হোটেল ও রিসোর্ট, ৮ হাজারেরও বেশি হোটেল কক্ষ এবং ১,৮৩০টি আবাসিক ইউনিট পরিচালনা করছেন। এছাড়াও তাঁর তদারকিতে প্রায় ১,০০,০০০ বর্গমিটার বাণিজ্যিক স্থান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সেলদার হোল্ডিং-এর চেয়ারম্যান এবং বিএনএফ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কাতারের এই তিন শীর্ষ নির্বাহীর সাফল্য দেশটির অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকেই নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালে কাতারে মোট ৫১ লাখ (৫.১ মিলিয়ন) পর্যটক আগমন রেকর্ড করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় আতিথেয়তা খাতে ১ কোটি ৮ লাখ (১০.৮ মিলিয়ন) ‘রুম-নাইট’ বিক্রি হয় এবং আবাসন খাত থেকে প্রায় ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলার আয় অর্জিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি, সর্বোচ্চ ২১০টি বিমান ও ৪০০টি ইঞ্জিন সংগ্রহ ও সেবার জন্য তারা বোয়িং এবং জিই অ্যারোস্পেসের সাথে বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত নেতৃত্বে আতিথেয়তা ও আবাসন খাতের প্রসার আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কাতারের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম সেক্টর যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে, ফর্বস-এর এই সম্মানজনক তালিকা তারই এক উজ্জ্বল ও মুন্সিয়ানা সাক্ষ্য বহন করে।