সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিট পিটিশনের (নং ১৩৯৭১/২০২৬) মাধ্যমে সরকারি কাজে ব্যবহৃত সকল বাস প্রত্যাহার করে সাধারণ যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক রুটে সেগুলো পুনর্বহালের আরজি জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সোমবার এই আবেদনটি দাখিল করেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন আইন, ২০২০’-এর ৫ ও ২২ ধারা অনুযায়ী, বিআরটিসির যানবাহন কেবলমাত্র জনস্বার্থে জনসাধারণের গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহারের কথা। কিন্তু আইনের এই বাধ্যবাধকতা অমান্য করে সরকারি মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা আইনত এখতিয়ারবহির্ভূত বা আল্ট্রা ভায়ারস।
এতে আরও বলা হয়, ‘বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা-২০০৭’-এর ৩ ও ৫(১৭) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীরাই বাস ইজারা পাওয়ার যোগ্য এবং এটি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরযোগ্য নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাস ইজারা দেওয়া নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়া জনগণের করের টাকায় কেনা বাস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রেখে নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয় তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিআরটিসির বাস ভাড়া করায় রাষ্ট্রের অর্থ এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরপাক খায়, যা আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহকে ব্যাহত করে এবং ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্টকে স্থবির করে দিচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা নিলে তা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখত। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাস কর্মকর্তাদের যাতায়াতে আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিক্ষার্থীরা চরম পরিবহন সংকটে ভুগছেন। রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডিভিশন বেঞ্চে শিগগিরই এই আবেদনের শুনানি হতে পারে।



