অন্যান্য আলোচিত খবর
- হজের আবেদনের পর ১৪ বছর অপেক্ষা করতে হয় যে দেশে
- প্রাক্তনকে পুরোপুরি ভুলে যেতে সময় লাগে ৮ বছর: গবেষণা
- ৯ গোল হজমের পর সাদ-সোহেলের নাইটক্লাবের ভিডিও ভাইরাল!
ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘ ক্লাস সূচির প্রতিবাদে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে মার্সেই, নঁত, স্ট্রাসবার্গ, তুলুজ ও লিলের মতো বড় শহরগুলোতে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জরুরি ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সংকট বৈঠক করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের জেরে জেন-জি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দীর্ঘ ক্লাস সূচি ও পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ নিয়েও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মার্সেইয়ে একটি স্কুলের সামনে পেট্রল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষক আক্রান্ত হন।
চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে ৪০০-এর বেশি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প হিসেবে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান অব্যাহত থাকবে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে প্যারিস অঞ্চলের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের সূত্রপাত হয়। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার মানে ঘাটতি রয়েছে এবং অধিকাংশ স্কুল ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই শোচনীয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিক্ষোভের শুরুর দিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরবর্তীতে তা সহিংস রূপ নেয়। নঁত ও রুয়াঁর বিভিন্ন স্কুলে অগ্নিকাণ্ড, মার্সেইয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং স্ট্রাসবার্গে যানবাহন পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে গণপরিবহন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ওই দিনই ১ হাজার ৯৪৯ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ব্যাপক ধরপাকড়ের পাশাপাশি আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে; ১ অক্টোবরের সংঘর্ষে ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য এবং আন্দোলন শুরুর পর থেকে ১৭০ শিক্ষার্থী ও ৬৫ জন শিক্ষা কর্মী আহত হয়েছেন। ফলে ‘প্রায় তিন হাজার’ আটকের দাবি না করে বর্তমান যাচাই করা হিসাবে ‘প্রায় দুই হাজার’ লেখা বেশি নির্ভুল। সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও বড় সংখ্যায় আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ঘিরে ফরাসি রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বামপন্থী দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’ (LFI)-এর নেতাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাঁ-দেনির মেয়র ও LFI নেতা বালি বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি হাইস্কুলের সামনে পুলিশের আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তার মন্তব্য ‘সহিংসতা বৈধ হতে পারে’—এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এই মন্তব্যের জেরে ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে অপরাধ প্ররোচনার অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে টিএফওয়ান (TF1) ও ল্য পারিজিয়ানের ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী, তাকে আগুন লাগাতে দেখা যায়নি, বরং আগুন নেভানোর চেষ্টায় তাকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। LFI-এর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কথা বলা হলেও পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে।
সরকার বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। আন্দোলনের মুখে পড়ে পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে অস্থিরতা নিরসনের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। শুক্রবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।



