সকলের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান

, বাংলাদেশ

সকলের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার সকালে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। এ সময় বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের সমান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, যা আমাদের জাতীয় বড় অর্জন। যেকোনো মূল্যে এই সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তিনি গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গোৎসবের মূল বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ধর্ম বা বর্ণ পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক নিপীড়ন বা বৈষম্যের শিকার হবেন, তা রাষ্ট্র মেনে নেবে না। এ সময় তিনি সকল ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

বঙ্গভবনের এই আয়োজনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তিনি সেখানে আগত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। এছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্য বজায় রেখে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যেকোনো অপশক্তিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করতে না দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি।

শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং দেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বঙ্গভবনে তাদের স্বাগত জানানোর আনন্দ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।