ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকেন ব্রাজিলের পেলে ও আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করলেও এই দুই কিংবদন্তির কারো শোকেসেই ওঠেনি ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। তাদের ফুটবলীয় সামর্থ্যের অভাব ছিল না, মূলত এই পুরস্কারের তৎকালীন কঠোর ও সীমাবদ্ধ নিয়মই তাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
১৯৫৬ সালে যখন ব্যালন ডি’অরের যাত্রা শুরু হয়, তখন এটি কেবল ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। ফলে ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া পেলে ও ম্যারাডোনা তাদের ক্যারিয়ারের স্বর্ণসময়ে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটির জন্য বিবেচনায় আসার সুযোগই পাননি। ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলার মাধ্যমে পেলে তার পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করেন, ততদিনে ইউরোপের বাইরের খেলোয়াড়দের জন্য ব্যালন ডি’অরের দুয়ার খোলেনি।
পুরস্কারটির নিয়মে বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৫ সালে, যখন ইউরোপের ক্লাবে খেলা বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়কে এই পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে বছরই প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ এসি মিলানে খেলার সময় এই পুরস্কার জিতে নেন। এরপর রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনিও এবং কাকার মতো ব্রাজিলিয়ান তারকারাও ব্যালন ডি’অর জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে ইউরোপে খেলার সময় এই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়ম তাকে সহায়তা করেনি। বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিয়ার হয়ে দীর্ঘদিন খেলার পর ১৯৯৩ সালে তিনি আর্জেন্টিনায় ফিরে যান। এছাড়া, ১৯৯১ সালে মাদক পরীক্ষায় কোকেন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় তিনি ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন, যা তার ক্যারিয়ারের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
অবশেষে ২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অরের নিয়ম আরও বিস্তৃত করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো ক্লাবে খেলা ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। আধুনিক এই নিয়মই লিওনেল মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মিয়ামিতে খেলার সময় ২০২৩ সালে রেকর্ড সংখ্যকবার ব্যালন ডি’অর জিততে সাহায্য করেছে। পেলের বা ম্যারাডোনার সময়ে যদি নিয়মটি এমন বিস্তৃত থাকত, তবে ফুটবল ইতিহাসের এই দুই মহাতারকার অর্জনের তালিকায় নিঃসন্দেহে ব্যালন ডি’অরের নাম যুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।



