গজারিয়ায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ: টেটাবিদ্ধসহ আহত তিন, আটক দুই

, বাংলাদেশ

গজারিয়ায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ: টেটাবিদ্ধসহ আহত তিন, আটক দুই

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘটা এই ঘটনায় টেটাবিদ্ধ হয়েছেন একজন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন টেংগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আতাউর রহমান (৪০), তার ভাতিজা বাইজিদ (১৪) এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. সোহেল (৪১)। পরে স্বজনেরা সেখানে গেলে আমার ছোট ভাই আতাউরকে টেটাবিদ্ধ করা হয়।

আহতদের মধ্যে টেটাবিদ্ধ আতাউর রহমান ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম সোহেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত বাইজিদ বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহজালাল ও রিফাত নামে দুজনকে আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, পেশায় আড়তদার গিয়াস রাতে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় জাকির প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তার দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের অনুসারী সানজিদ, রিমন, রিফাত ও শাহজালালসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ জন রামদা, ছুরি ও টেটা নিয়ে এই হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে গিয়াস ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে আমি স্বজনদের বিষয়টি জানাই।

উল্লেখ্য, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন ও বর্তমান ইউপি সদস্য গিয়াসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে অন্তত পাঁচবার বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি রয়েছে।