মৌসুমের শুরুতে টানা ১১ ম্যাচে ৪৯ গোল করার দারুণ সাফল্য থাকলেও সম্প্রতি খেই হারিয়ে ফেলেছিল বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে এবং পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে টানা দুই ম্যাচের গ্লানিতে পড়েছিল তারা। তবে আলাভেসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে আবারও দুর্দান্তভাবে জ্বলে উঠেছে কাতালান ক্লাবটি। নিজেদের মাঠে প্রতিপক্ষের জালে একে একে ৬ গোল জড়িয়ে ৬-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে পিএসজির সামনে, প্যারিসে ৪-২ গোলের সেই হারের পর বার্সা রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও হেরেছিল ২-১ গোলে। মৌসুমের শুরুটা বার্সেলোনা দুর্দান্তই করেছিল।
ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে বার্সা। খেলার মাত্র আট মিনিটে পেদ্রির থ্রু পাস ধরে ফের্মিন লোপেজ বল বাড়িয়ে দেন রাফিনিয়াকে, যিনি জোরালো শটে প্রথম গোলটি করেন। ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফের্মিন নিজেই, যেখানে এসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন লামিন ইয়ামাল। আলাভেসের হয়ে আবদে রেব্বাখ, আনহেল পেরেজ ও লুকাস বোইয়ে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা গোল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। ২৩ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। রাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামাল দুটি করে গোল করেছেন। ইয়ামালের পাস থেকে দুরূহ কোণ থেকে বল জালে পাঠান ফের্মিন। তবে সফরকারীরা সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সুন্দর কার্ল করা শটে গোল করেন।
ম্যাচের ৪১ মিনিটে ফের্মিন মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে রাফিনিয়াকে দেন। ঠাণ্ডা মাথায় কার্লিং শটে নিজের দ্বিতীয় গোল নিশ্চিত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে জালে বল পাঠিয়ে বার্সাকে ৪-০ গোলে এগিয়ে দেন লামিন ইয়ামাল।
বিরতির পরও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে বার্সেলোনা। ৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা গাব্রিয়েল জেসুসের পাস থেকে চিপ করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। শুরুতে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। ৮১ মিনিটে আলাভেসের আন্দের গেবারাকে পেছনে ফেলে চিপ শটে গোলরক্ষক সিভেরাকে পরাস্ত করে ষষ্ঠ গোলটি আনেন বদলি খেলোয়াড় অ্যান্টনি গর্ডন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে রদ্রির ভুল ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে মারিয়ানো দিয়াজ বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলে একটি গোল শোধ করে আলাভেস। তবে পরের গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৬৪ মিনিট পর্যন্ত।
এই বড় জয়ের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ১০০তম জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করলেন হান্সি ফ্লিক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ১৩০ ম্যাচে তিনি এই অর্জন পূর্ণ করেন। বার্সার ইতিহাসে তার চেয়ে কম ১২৬ ম্যাচে ১০০ জয় পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে কেবল লুইস এনরিকের। তার চেয়ে কম ম্যাচে এটি করেছেন শুধু লুইস এনরিকে, ১২৬ ম্যাচে ছুঁয়েছেন এই মাইলফলক।



