রাজবাড়ীতে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজবাড়ীর পাংশা থানার ধুলিয়াট গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল মণ্ডল এবং মো. শাহিদুল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে আসামিরা ভুক্তভোগী ফারুক ও তার খালাতো ভাই আজিজুল ইসলামকে বেড়ানোর কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। ঘটনার ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পাচারকারীদের হাত থেকে পালিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও, ভুক্তভোগী মো. ফারুক ওরফে মারুফ এখনো নিখোঁজ। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে ফিরছেন। মানবপাচারের শিকার ভিকটিম মো. ফারুক ওরফে মারুফকে (১৬) দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে খুঁজে ফিরছে তার পরিবার।
আদালত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে পৃথকভাবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, উভয় ধারার সাজা একইসঙ্গে কার্যকর হবে। আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
পলাতক আসামিদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে আদালত পূর্বে ইস্যুকৃত পরোয়ানা প্রত্যাহার করে সাজার বিষয়টি উল্লেখপূর্বক নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



