চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শানে রেসালত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত আমির উপরোক্ত আহ্বান জানান। রেসালাত সম্মেলনে হাজার হাজার তৌহিদি জনতা শামিল হন।
হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আরো বলেন, মওদুদীর জামায়াত পয়গাম্বর ও সাহাবীদের মাসুম নিষ্পাপ বলে মানে না, সত্যের মাপকাঠি মানে না, তাঁদের সম্পর্কে সমালোচনা করে। সাহাবীরা নাকি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাহলে কি ঈমান থাকে? এমনকি খলিফা হযরত ওমরের (রা.) চরিত্র হনন করে জঘন্য ভাষায় সমালোচনা করে, যা হুজুরের (সা.) জামানায় কাফেররাও কখনো করেনি। ঈমান থাকলে এসব কথা বলে এদেশে থাকতেই পারে না। অথচ রাসূল (সা.) বলেন, আমার পর আর কেউ যদি পয়গাম্বর আসতেন ওমরই (রা.) হতেন পয়গাম্বর। যিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের জন্য প্রশংসিত। হযরত ওমরকে (রা.) দেখলে ভয়ে শয়তান পালিয়ে যেতো।
তিনি বলেন, মওদুদী ফিৎনা কাদিয়ানীর চাইতেও বড় ফিৎনা। কাদিয়ানীরা অমুসলিম একথা সবার জানাশোনা। কিন্তু মওদুদীর ফিৎনা মুসলমানদের ভেতরে থেকে ইসলামের গোড়া কেটে দিচ্ছে। আমাদের উস্তাদ আলেমগণ আগেই বিভিন্ন সময়ে বলে সতর্ক করে গেছেন, জামায়াতের ইসলাম মওদুদীর ইসলাম। মদীনার ইসলাম নয়। আমাদের ইসলাম মৌলবাদী ইসলাম নয়; মদীনার ইসলাম। আল্লাহ আমাদের মওদুদীর ফিৎনা থেকে বাঁচান।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উক্ত আন্তর্জাতিক শানে রেসালত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখা সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী। সম্মেলনে প্রধান আলোচক পাকিস্তান থেকে আগত করাচীর জামিয়া মাহমুদিয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী নূরুল হক (সাবেক এমপি) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সঠিক পথের নির্ণায়ক মাপকাঠি হিসেবে রাসুলকে (সা.) মানবীয় সকল গুণের অধিকারী করে প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাঝে প্রশংসিত সকল গুণের সমাবেশ ছিল। আর সেই অনুপম আদর্শের উজ্জ্বলতায় পতঙ্গের মতো আছড়ে পড়েছিলো পুরো পৃথিবী। সত্য ও সুন্দরের বিজয় হয়েছিলো তাঁরই হাত ধরে। সভ্যতার চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ পাঠ অধ্যয়নে তো পৃথিবী তাঁর কাছেই ঋণী। পৃথিবী পেয়েছিলো ইতিহাসের সবচেয়ে আলোকিত ও মহিমান্বিত হাতে গড়া সমাজব্যবস্থা। যা এর আগে ও পরে কেউ পারেনি, আর পারবেও না। মুসলিম-অমুসলিম সকলেই যাঁর আদর্শকে মেনে নিয়েছিলো নির্বিবাদে। তিনি ছিলেন সৃষ্টি জগতের জন্য শ্রেষ্ঠতম উপহার।
দিনব্যাপী উক্ত রেসালাত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী খলিল আহমদ কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা উবাইদুল্লাহ ফারুক, আল্লামা মুফতী জসিম উদ্দিন, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আবু তাহের নদভী, মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা শোয়াইব জমিরী, মুফতী কিফায়াতুল্লাহ, মুফতী মাহমুদ হাসান, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা মীর কাসেম, মাওলানা উসমান ফয়জী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মাহমুদ হাসান ফতেপুরী, মাওলানা শফি, মাওলানা শামসুদ্দোহা চৌধুরী, মাওলানা আহমদ দীদার কাসেমী, মাওলানা আবু তৈয়ব আব্দুল্লাহপুরী, মাওলানা উসমান সাঈদী, মাওলানা জাফর আহমদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী কুতুব উদ্দিন, ড. নূরুল আবসার আযহারী, মাওলানা ইসমাঈল খাঁন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন বিন জমির উদ্দীন, মুফতী মাহমুদ হাসান গুনবী, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মীর ইদরিস নদভী, মুফতী আব্দুল আজিজ, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী, মাওলানা ইবরাহীম, মাওলানা ইদরিস, আহসান উল্লাহ, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা শোয়াইব বিন ইয়াহইয়া, মুফতী রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার শাহ আযহারী, মাওলানা আলমগীর মাসউদ, মুফতী জমির উদ্দিন, মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ প্রমুখ।
হেফাজতের উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা এমরান সিকদার, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মোরশেদ আলম, মাওলানা হাসান মুরাদ যৌথ সঞ্চালনা করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইউনুস, মাওলানা ইয়াছিন, নূর মুহাম্মদ, মুফতী বশিরুল করিম, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মুফতী মাসউদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা ফোরকান আলী প্রমুখ