জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে নানককে প্রশ্ন করা হয়, জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি? উত্তরে তিনি বলেন, দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে। তিনি জানান, ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে তার রাজনীতির শুরু। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতে এসে ট্রেনিং নিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানি পাঞ্জাবি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি ফ্রন্ট ফাইট বা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
নানক স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির কারণে তাদের আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। ৫ আগস্টের ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেখেছেন কীভাবে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু অপমানজনকভাবে ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তারা বাংলাদেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।
৫ আগস্টের সেই উত্তাল সময়ের কথা স্মরণ করে নানক বলেন, ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি গণভবনে ছিলেন। এরপর ৫ আগস্ট তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। তার বিরুদ্ধে আনা ৯ জনের হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কাছে মামলার নথিপত্র রয়েছে এবং কোথাও কোনো সাক্ষী তাকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বলেননি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, আইন ও আদালত যদি নিজস্ব গতিতে চলে, তবে শেখ হাসিনাসহ তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো হত্যা মামলা টিকবে না। আইসিটি আদালতসহ সব মামলার কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নানক বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। তবে তিনি তার দলের আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে অবিচল। তিনি মনে করেন, সময়ের প্রয়োজনে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যে মামলাগুলো দেওয়া হয়েছে, তা আইনগতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের মানুষ একসময় প্রকৃত সত্য জানতে পারবে। তার আত্মগোপনে থাকার এই সময়টি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং দলের একটি কঠিন সময়ের প্রতিফলন হিসেবে তিনি দেখছেন। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবসময় আপসহীন থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এল যখন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চাপের মুখে রয়েছে এবং দলের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা কারাগারে রয়েছেন। নানকের এই বক্তব্য দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ও সাহসের প্রয়োজন। তার এই সাক্ষাৎকারটি কেবল তার ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং দলের বর্তমান পরিস্থিতির একটি দালিলিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে বারবার আইনের শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন। তার মতে, সত্য কখনো চাপা থাকে না এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নানকের এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তার ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনোভাবেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করবেন না এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার এই দৃঢ়তা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কথা বলেছেন। তার মতে, রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকবেই, কিন্তু আদর্শের জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। তিনি তার বক্তব্যে বারবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা স্মরণ করেছেন এবং সেই আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি সবসময় কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিশেষে, নানক তার দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তিনি মনে করেন, সত্যের জয় হবেই এবং বাংলাদেশের মানুষ একসময় প্রকৃত সত্য জানতে পারবে। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি তার বক্তব্যে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া।
১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি।
যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে।
নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার।
অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি।
কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে।
আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি।
বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে।
তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন?
বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না!
তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু।
ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে।
গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি।
ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই।
আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম।
মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না।
এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি।
এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী।
ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।
প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)।
আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়।
যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল।
তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি।
তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি।
এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে।
ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি।
আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান।
আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত।
সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে।
কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।
নানক: না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম।
বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।
নানক: ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত।
আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।
প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।
প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে।
মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
নানক: আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা।
কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
নানক: না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না।
আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন।
উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’।
ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না।
দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন।
দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে।
কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে।
কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে।
আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন।
কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন।
৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না!
আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত।
উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম।
আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন।
গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ।
গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো।
ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ।
ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি।
ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী।
আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম।
সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো।
সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।
প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না।
একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম।
আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না।



