বাংলাদেশের কওমি ধারার প্রভাবশালী আলেম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একটি বক্তব্যের পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যামূলক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মানুষের একটি অংশ ও নেটিজেনদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কি তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসছেন?
এক প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে এবং নির্বাচন ও ক্ষমতার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে একদিনেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়—এই বক্তব্যে কোনো অসংগতি নেই।
তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না তাঁর এক সময়ের অনেক সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের ঘনিষ্ঠ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে যিনি আপসহীন অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, আজ তাঁর বক্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, যারা এক সময় দ্বীন ও শরিয়া প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা বলতেন, ক্ষমতার রাজনীতির সম্ভাবনা সামনে আসতেই তাদের বক্তব্যে ‘ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া’ বা ‘বাস্তবতার’ যুক্তি উঠে আসা হতাশাজনক।
মাওলানা মামুনুল হকের বাবা, প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) আজীবন আপসহীনভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামুনুল হকের সক্রিয় ভূমিকা ও কারাবরণ তাঁকে ইসলামী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও অবস্থান তাঁর সেই ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন, জোট রাজনীতি এবং ক্ষমতার সমীকরণে তিনি কৌশলগতভাবে নমনীয় অবস্থান নিতে পারেন। তবে এই অবস্থান তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আদর্শিক পরিচয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্ন তুলছেন ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরাও।
তাদের ভাষায়, যদি বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই ধাপে ধাপে এগোতে হয়, তবে অতীতের রাজপথের সংগ্রাম, ত্যাগ ও কঠোর অবস্থানের মূল্যায়ন কোথায় দাঁড়ায়—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।