February 4, 2026, 12:31 am
Title :
একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব, একটি গোষ্ঠী একাত্তরককে পেছনে ফেলতে চায়: মির্জা ফখরুল জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের ছবি সাঁটিয়ে জাকসুর প্রতিবাদ “এবার জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক” ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে তাড়াশে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ অসুস্থ প্রার্থী, তবুও থেমে নেই প্রচারণা: সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপির মাঠ দখলে নেতাকর্মীরা বেবিবাম্প নিয়ে প্রকাশ্যে সোনম কাপুর মিনিস্টার শোরুমে চাকরি, ৪০ বছরেও আবেদন করুন কে এই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন? গাইবান্ধার মালিবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হাসিনার ১০ বছর টিউলিপের ৪ ও আজমিনা-ববির ৭ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের ছবি সাঁটিয়ে জাকসুর প্রতিবাদ

  • Update Time : Tuesday, February 3, 2026
  • 6 Time View
জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের ছবি সাঁটিয়ে জাকসুর প্রতিবাদ
8

আলামিন খান, জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালে জুলাই হামলার মদদদাতা ও উসকানিদাতা শিক্ষকদের দ্রুত বিচার চেয়ে ছবি সাঁটিয়ে দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নেতারা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাকসুর স্বাস্হ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারকের নেতৃত্বে জাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালে জুলাই হামলার মদদদাতা ও উসকানিদাতা শিক্ষকদের ছবি সাঁটিয়ে দেয়।

​প্রশাসনিক ভবনে মদদদাতা শিক্ষকদের ছবি সাটানোর আগে জাকসু নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সাথে সাক্ষাৎ করে জুলাই হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য তাদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে চটে যান। বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে জাকসু নেতাদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে কোনো গ্রহণযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানাতে না পেরে তিনি এক পর্যায়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এবং পুরো বিষয়টি অনেকটা উপরওয়ালার ওপর ছেড়ে দেন এবং বলেন ‘উপরওয়ালার কাছে তিনি দায়বদ্ধ”।

উপাচার্যের খাপছাড়া বক্তব্যে জাকসু নেতারা জানান, ​বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও হামলার প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা ও মদদদাতারা অনেক শিক্ষকেরা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আসীন আছেন এছাড়াও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন। তাই তারা ছবি সাটানোর বিষয়ে সিধান্ত নিয়েছেন। ছবি সাটানোর বিষয়ে জাকসু নেতারা আরও জানান, এই ছবি টানানোর মুল উদ্দেশ্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত দর্শনার্থীরা যাতে সহজেই জানতে পারেন এই শিক্ষকদের অতীত কর্মকাণ্ড। এছাড়াও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে তারা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

ছবি সাটানোর বিষয়ে জাকসু স্বাস্হ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, জুলাই হামলার মদদদাতা, শিক্ষক নামধারী এসব নৃশংস ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন চলবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ মহলের পক্ষ থেকে এদের প্রতি অস্বাভাবিক সহানুভূতি ও পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শিত হচ্ছে। কোনো দলীয় স্বার্থ বা এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে যদি বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা কখনোই শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। অভিযুক্তদের বিচার নিয়ে তালবাহানা করে কোন লাভ হবে না। তাদের উচিত ফ্যাসিস্টদের পরিণতি সম্পর্কে স্মরণ করা।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান জানিয়েছেন যে, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।  তবে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত না ঘটান।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক দাবি থেকে। ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। ওইদিন বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। শিক্ষার্থীরা আত্মরক্ষার্থে উপাচার্যের বাসভবনে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং প্রক্টোরিয়াল বডির অনেক সদস্য সরাসরি যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রক্টর স্বয়ং পুলিশ এবং সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের পথ সহজ করে দিয়েছিলেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে যখন শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ হয়ে মার খাচ্ছিল, তখন প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করেছিল।

অভিযুক্ত ও শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলেন, সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রভোস্ট ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাবেক প্রভোস্ট ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন সিকদার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Times News7
Theme Customized By BreakingNews