ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করছে সরকার: রিজভী

, Uncategorized

ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করছে সরকার: রিজভী

গুম, খুন, অরাজকতা এবং ব্যাপক দুর্নীতির এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিগত সরকারের আমলের ভয়াবহ নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, আমরা এমন এক ভঙ্গুর পরিস্থিতির ওপর সরকার গঠন করেছি, যেখানে চারিদিকে ছিল কেবল বিশৃঙ্খলা ও ভয়ের রাজত্ব। কে কখন গুম হয়ে যাবে বা অদৃশ্য হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ভিন্নমত পোষণ করলেই খাল, নদী বা পুকুরপাড়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে নৌকার ভেতর পিটিয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে জনগণ বিপুল আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গিয়েছিল। সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটপাটের কবলে পড়েছিল। মেগা প্রজেক্টের আড়ালে মেগা দুর্নীতি ও লুটপাটের যে রূপকথার গল্প আমরা শুনতাম, বিগত আমলে তা ছিল এক নির্মম বাস্তব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকপাত করে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি তার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ নানাবিধ উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ ও দুর্যোগ উন্নয়নের গতিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও, সরকার তা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে জনগণের স্বস্তি ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষার নিরন্তর চেষ্টা চলছে।

সরকারের স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, কিন্তু জনগণের সরকার থাকলে তা মোকাবিলা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল ব্রত। নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণেই প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানটি সেই বৃহত্তর জবাবদিহিতারই একটি অংশ। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।