দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তাঁর জীবনের এক অত্যন্ত কঠিন ও অন্ধকার সময়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন। সম্প্রতি ‘আই অ্যাম উইথ ধন্যা ভার্মা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি একটি ‘বিষাক্ত’ বা টক্সিক সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। এই সম্পর্কটিকে তিনি ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা আত্মকেন্দ্রিক মানসিক নির্যাতনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনুপমার বর্ণনা অনুযায়ী, সম্পর্কটি ছিল ভালোবাসা, ঝগড়া, মানসিক বিপর্যয় এবং ক্ষমা চাওয়ার এক অন্তহীন চক্র, যা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
এই সম্পর্কের নেতিবাচক প্রভাব তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মকভাবে পড়েছিল। অনুপমা জানান, তিনি তীব্র উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক, ব্ল্যাকআউট এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিলেন। অনেক সময় কথোপকথনের পর তিনি বমি করতেন এবং ঠিকমতো খেতে পারতেন না। একপর্যায়ে তাঁর ডান চোখ অনবরত কাঁপতে শুরু করে, যা তাঁর পেশাগত জীবনেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, শুটিং বন্ধ রাখতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর চোখের অশ্রুগ্রন্থি বা ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার শরীরে এমন অনেক ক্ষত রয়েছে, যা শারীরিক নির্যাতনের কারণে নয়, কিন্তু শরীর ও মনে এমন কিছু গভীর দাগ তৈরি হয়েছে যা কোনো দিনই পুরোপুরি মুছে যাবে না।’ তিনি আরও জানান, বাইরে থেকে এমন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা ছিল মাকড়সার জালের মতো। ক্রমাগত গ্যাসলাইটিং এবং মানসিক কৌশলের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় বুঝতে পারেননি যে তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে অসংগতিগুলো ধরতে পেরে এবং মিথ্যা শনাক্ত করার পর তিনি প্রতিবাদ শুরু করেন, তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতিবারই দোষ তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
অবশেষে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পর দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং ওই সম্পর্কের মুখোশ উন্মোচিত হয়। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, কিন্তু তাঁরা কেউই কখনো প্রেমের বিষয়টি স্বীকার করেননি। বর্তমানে অনুপমা তাঁর ক্যারিয়ারে মনোযোগী এবং ‘ভোগী’ ও ‘ক্রেজি কল্যাণম’-এর মতো বেশ কিছু দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করছেন।



