প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, একটি সুচতুর চক্র দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
সমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র, দুর্বল অর্থনীতি এবং বিপর্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে। তবে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয় এবং তারা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টরে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার অবশ্য ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
সরকারপ্রধান আরও জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার মানসিকতা থাকা জরুরি। দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য বা অবহেলা সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জনগণের অনাস্থা তৈরি করে। তিনি চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে মানুষ দেশেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।
প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সেই অবস্থা থেকে সরকার সফলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র রাজনীতি শাসন প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ করেছি, একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়।
তবে চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়েই সফলতা আসবেনা।
আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়।’
এ ক্ষেত্রে জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।



