নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পুলিশ এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এখনো আট শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে অবস্থানরত ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে এসব নাগরিক আটকা পড়েছেন বা তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে ত্রিশুলি ওয়ান পাওয়ার প্রজেক্টে কর্মরত ৭৩ জন কর্মী রয়েছেন। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কৈলাস ও মানস সরোবরগামী তামিলনাড়ুর ৩৭ ও ৪৯ জনের দুটি দল এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩২ জনের একটি দল নিখোঁজ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পর্যটক দলটি রাসুয়া অঞ্চলের তিমুরের কাছে অবস্থান করছিল, যেখানে এই আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে।
তালিকায় থাকা অন্যদের মধ্যে কেরালা থেকে যাওয়া ৩৩ জনের একটি দল এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আরও ৬১ জন পর্যটক রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, তামিলনাড়ুর ২১ জন পর্যটককে এরই মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কৈলাস ও মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় আটকা পড়েছেন, যাদের সঙ্গে বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রক্ষা করছে। আটকে পড়া সকল ভারতীয়কে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ২৮৮ জন ভারতীয়র সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই কর্মীরা ছাড়াও ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন।



