দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথ নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন অধিকাংশ বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত এক দেশব্যাপী জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে ‘মোটামুটি ভালো’ অথবা ‘খুব ভালো’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
গত ৯ই আগস্ট আইআরআই তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত ৫৭ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে ধারাবাহিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জরিপে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন ২২ শতাংশ উত্তরদাতা। এছাড়া ১৫ শতাংশ মানুষ মাদক সমস্যাকে এবং ১২ শতাংশ মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ে উদ্বেগ গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ২২ শতাংশ মানুষ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ২১ শতাংশ মানুষ সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জোহানা কাও বলেন, নাগরিকরা তাদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের প্রয়োজন মেটাতে অর্থবহ সংস্কারের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি। আইআরআইয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।
জরিপের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগ ও ৬৪ জেলার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ হাজার মানুষের ওপর সরাসরি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। উত্তরদাতাদের বাড়িতে গিয়ে কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার (CAPI) পদ্ধতিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগ, বয়স, লিঙ্গ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডে নমুনার সমন্বয় করা হয়েছে।
এরপর মাদককে শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মত দিয়েছেন।
শতকরা ১২ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রধান সমস্যা হলো আইনশৃংখলা।
নতুন সরকারের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিতÑ এ প্রশ্নেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন উত্তরদাতারা।
রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে সবসময় একমত নাও হতে পারে।
তবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয়- এমন অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।



