বরিশালের উজিরপুরের পশ্চিম সাতলায় শুক্রবার রাতে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় রাশেদ আমিন নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আশিকুল হাওলাদার ও কাওছারের সঙ্গে স্থানীয় নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও কাঞ্চন মোল্লার বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পেশায় একজন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চলছিল।
ঘটনার সময় ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে একদল লোক এলাকায় এসে উপস্থিত হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাওছার ও রাশেদকে সাতলা-কান্দী সড়কের একটি ব্রিজের ওপর একা পেয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে তারা ব্রিজ থেকে খালে ঝাঁপ দেন এবং সড়কের পাশে হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাশেদের ভাষ্যমতে, হামলায় অংশ নেওয়া প্রায় ১৫ জনের দলটি স্থানীয় মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওছারকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়, তবে রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। নিহত কাওসার উজিরপুরের সাতলা এলাকার মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর সাতলা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই রাতে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের দাবি, জব্দ করা মাইক্রোবাসটি কোনো টিভি চ্যানেলের নয়, তবে মাঝেমধ্যে ভাড়ায় ব্যবহারের সুবাদে এতে বেসরকারি টেলিভিশনের স্টিকার লাগানো ছিল। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আটককৃতরা জানিয়েছেন জব্দকৃত মাইক্রোবাসের সাথে ওই বেসরকারি টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মাইক্রোবাসটি মাঝেমধ্যে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রয়োজনে ভাড়া নিতো। এ কারণে গাড়িতে স্টিকারটি লাগানো ছিল।



