পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজের কয়েকদিন পর বাগান থেকে ব্যবসায়ীর উদ্ধার হওয়া নিয়ে রহস্য

, বাংলাদেশ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজের কয়েকদিন পর বাগান থেকে ব্যবসায়ীর উদ্ধার হওয়া নিয়ে রহস্য

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নান্দুহার-ইলুহার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত একটি বাগানসংলগ্ন ডোবা থেকে শাহ আলম (৭০) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলিত দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার সকালে স্থানীয়রা ওই এলাকায় দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ডোবায় দেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। নিহত শাহ আলম নান্দুহার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার থেকেই শাহ আলম নিখোঁজ ছিলেন। তবে নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তারা নিজেদের মতো করে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করছিলেন। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় কোনো অভিযোগ না আসায় পুলিশ আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, শাহ আলম পেশাগত কাজে গাছ কাটার সময় ঝুলে থাকা অরক্ষিত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকতে পারেন। তাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় বিদ্যুতের তারগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে আছে। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে নেছারাবাদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জানে আলম জানান, ওই এলাকায় বিদ্যুতের তার ঝুলে থাকা বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকার বিষয়ে তাদের দপ্তরে আগে কোনো অভিযোগ আসেনি। শাহ আলমের মৃত্যুর সঙ্গে বিদ্যুতের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শনিবার থেকে শাহ আলমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

একপর্যায়ে তারা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিতে পারত।

তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁরা নিশ্চিত নন।

শাহ আলম বিদ্যুতের তারে সংযুক্ত হয়ে মারা গেছেন কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এ মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।