এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি অব্যাহত

, Uncategorized

এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি অব্যাহত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি সরবরাহের টার্মিনালগুলোর মধ্যে সামিট পুরোদমে এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়েছে। এতে শনিবার থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গ্যাসের এই সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর বাসা-বাড়ি ও সিএনজি পাম্পগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। পাম্পগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ লাইন ধরে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালকদের। ঢাকার অন্তত পাঁচটি গ্যাসের পাম্প ঘুরে ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।

মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ভোর চারটার দিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট ও এক্সিলারেট থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সর্বনিম্ন ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ চলে। এলএনজি থেকে সাধারণত ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ১৭৩ কোটি ঘনফুট, যা শনিবার বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দিনে এখনো ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে।

গতকাল সরজমিন পাম্পগুলোতে দেখা যায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে পাঁচটি পাম্প পরিদর্শন করে চারটিতে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইস্কাটন এলাকার অনুদিপ সিএনজিতে যানবাহনের জন্য আলাদা দুটি সারি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত যানবাহন চারটির বিপরীতে পাম্পে ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস দেয়া হচ্ছিল। ব্যক্তিগত যানবাহনের সারি বাংলামোটর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ফলে একেকজন চালক অন্তত ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিচ্ছেন। মগবাজার রেলগেট এলাকার যমুনা অটোতে সারিবদ্ধ গাড়িগুলো মগবাজার চৌরাস্তা থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি করে রাখে। পাম্পটিতে গ্যাস নিতে আসা চালকরা জানান, একেকজন একই জায়গায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করছেন।

তেজগাঁও এলাকার অল ইন ওয়ান ফিলিং স্টেশনে অন্তত ৩শ’ মিটার লম্বা সারি দেখা গেছে। এছাড়া বিআরটিসি পরিচালিত সিটি ফিলিং স্টেশনেও গতকাল গ্যাস নিতে চালকদের লম্বা সারি ছিল। অনুদিপ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়িচালক মনির বলেন, সকাল সাড়ে সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছি এবং গত সাড়ে সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন, চালকদের এখন দম ফেলার জায়গা নেই। আট দিনের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়, এরপরও গাড়ির মালিকের পরিবারকে বহনের জন্য ব্যস্ত হতে হয়। গাজীপুর থেকে আসা জুয়েল তেজগাঁওয়ের অলইন ওয়ানে গ্যাস নিতে এসে বলেন, বনানী ও মহাখালীসহ একাধিক এলাকায় পাম্প ঘুরে কোথাও গ্যাস পাননি। কোথাও পাম্প বন্ধ ছিল, কোথাও অনেক লম্বা সারি ছিল। দেড় ঘণ্টা ধরে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও পাম্পে তেমন চাপ কমেনি। অলইন ওয়ানের ক্যাশিয়ার সৈকত সরকার বলেন, আজ রোববার দুপুরে লাইনে গ্যাস এসেছে, তাই সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেয়া যাচ্ছে। সাতরাস্তার আকিজ ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর সিএনজি পাম্পগুলোতে চালকদের ভোগান্তি এখনো চরমে।