জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক

, বাংলাদেশ

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক

এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ধানমন্ডির নিজ বাসায় ফিরে গেছেন। খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সবকটি মামলাতেই তিনি জামিন লাভ করেছেন। সর্বশেষ বনানী থানার একটি মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন, যার ফলে তাঁর জামিন বহাল থাকে এবং মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়।

আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে আইনজীবীদের তথ্যমতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেই রুলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন ও লিভ টু আপিল করে। পরবর্তীতে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগ আদেশ প্রদান করেন।

আপিল বিভাগের আদেশে এ–সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তাঁর ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন।