কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ড: ১৩ হোটেল ও রেস্তোরাঁকে শোকজ

, বিশ্ব

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ড: ১৩ হোটেল ও রেস্তোরাঁকে শোকজ

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত বাংলাদেশি পর্যটকসহ মোট নয়জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। ওই এলাকায় অবস্থিত হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে কঠোর তদন্ত। এরই অংশ হিসেবে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘শিখা ইন’ হোটেলে গত ২০ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হোটেলের অভ্যর্থনাকক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় হোটেলে ১০ জন অতিথি ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুর রয়েছেন। এছাড়া নিহত অপর দুজন হলেন হোটেলের কর্মী ১৯ বছর বয়সী সন্দ্বীপ পাসোয়ান এবং শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগ নারায়ণ আগরওয়াল (৬৮)।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ হোটেলটির ইজারাদার আবুজাফরকে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে কলকাতার আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র প্রায় পাঁচ মাস আগে আবুজাফরের স্ত্রীর নামে মাসিক ৪০ হাজার রুপি ভাড়ায় ১১ মাসের চুক্তিতে হোটেলটি ভাড়া দিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে আবুজাফরের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন। এছাড়া মালিকের আরেকটি হোটেল ‘যাপন’-এর এক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে কলকাতার বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রিয় এই হোটেলপাড়া এখন থমথমে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশি পর্যটকসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর ওই এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস কর।