কাতার এয়ারওয়েজের ১৫০টি উড়োজাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেট: আকাশপথে মিলবে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই

, তথ্য-প্রযুক্তি

কাতার এয়ারওয়েজের ১৫০টি উড়োজাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেট: আকাশপথে মিলবে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই

আকাশপথে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক করতে বিশ্বের প্রথম এয়ারলাইন হিসেবে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। একই সঙ্গে এয়ারলাইন্সটি তাদের পুরো বোয়িং ৭৮৭-৮ বহরেও এই প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে কাতার এয়ারওয়েজের মোট ১৫০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজে স্টারলিংক সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যা বিমান পরিবহন খাতে এক নতুন মাইলফলক। এয়ারলাইন্সটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের পুরো বোয়িং ৭৮৭ বহরে এই সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

প্রযুক্তিগত এই অগ্রযাত্রায় কাতার এয়ারওয়েজ বেশ দ্রুতগতিতে কাজ করছে। এর আগে বোয়িং ৭৭৭ বহরে মাত্র নয় মাস এবং এয়ারবাস এ৩৫০ বহরে আট মাসের মধ্যে স্টারলিংক স্থাপনের কাজ শেষ করেছিল তারা। সর্বশেষ বোয়িং ৭৮৭-৮ বহরে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে সাত মাস। বর্তমানে স্টারলিংক স্থাপন কার্যক্রমে এয়ারলাইন্সটির অগ্রগতি ৮৩ শতাংশেরও বেশি। বোয়িং ৭৭৭, এয়ারবাস এ৩৫০ এবং বোয়িং ৭৮৭—এই তিন ধরনের উড়োজাহাজে স্টারলিংক সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইনফ্লাইট স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

স্টারলিংক সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা আকাশে সর্বোচ্চ ৫০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এই উচ্চগতির সংযোগের ফলে উড়োজাহাজে বসেই ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, অফিসের জরুরি কাজ এমনকি স্থানীয় বিধিনিষেধ সাপেক্ষে ভিডিও কল করাও সম্ভব হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম এই সেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজারের বেশি ফ্লাইটে ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি যাত্রী স্টারলিংক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩২৩টি ফ্লাইটে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে কাতার এয়ারওয়েজ। যোগ্য ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় আইন বা বিধিনিষেধ না থাকলে গেট থেকে উড্ডয়ন এবং গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথেই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ দীর্ঘ ও অতি-দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য আকাশপথের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও কার্যকর করে তুলছে।