রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশটি বিভক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য সুনামির মতো বিপর্যয় ডেকে আনবে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের অর্থ হলো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।
সম্প্রতি ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম এমন দাবি। গত মাসে ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে আন্দোলনকারীরা তার নির্বাচন আয়োজনের দাবির সঙ্গে একমত হতে পারেননি। ফেদোরভকে বর্তমানে জেলেনস্কির সম্ভাব্য প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।
ইউক্রেনের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জটিল। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক নাগরিক বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, অনেকে রুশ দখলদারির অধীনে রয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত। ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয়রা এখনই ভোট দিতে আগ্রহী নন। কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এছাড়া জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন এখনো প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে।
জেলেনস্কি অবশ্য তার আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে জানিয়েছেন, যদি ইউক্রেনের মিত্ররা নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবেই যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মিত্র দেশ এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, তার মূল কৌশল হলো যুদ্ধ অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনকে টিকিয়ে রাখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নিয়ে গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে জনমত জরিপ পরিচালনাকারীরা বলছেন, ইউক্রেনীয়রা রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও এখনই ভোট দিতে তাদের আগ্রহ খুব কম।



