শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হাজারো মানুষ, বিলীন বসতবাড়ি ও স্থাপনা

, বাংলাদেশ

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হাজারো মানুষ, বিলীন বসতবাড়ি ও স্থাপনা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে মাঝিরঘাট, পালেরচর বাজার, কাথুরিয়া, মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দিসহ আশপাশের এলাকার প্রায় এক হাজার পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে কাথুরিয়া এলাকায় সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটিসহ প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই এই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে কাথুরিয়া এলাকায় দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক মিটার ভূমি। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা ইতোমধ্যে ২৫টি বসতঘর ও সাতটি দোকান ভেঙে সরিয়ে নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ করছেন এবং স্থানীয়রা সড়কের ইট তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। পাউবো ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলার চেষ্টা করলেও আস্থার অভাবে বাসিন্দারা তাদের শেষ সম্বল সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভুক্তভোগী সলিমউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৪০ বছরে তিনি ছয়বার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। তার মতে, বর্ষাকালের পরিবর্তে শীতকালে স্থায়ী বাঁধের কাজ করা হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ব্যবসায়ী দুলাল মাতব্বরও স্থায়ী বেড়িবাঁধের অভাবে পাউবোর অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার নাওডোবা থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পের জিরোপয়েন্ট থেকে পালেরচর পর্যন্ত অংশের কাজ পুনরায় শুরু হয়। তবে কাথুরিয়া এলাকার ১২ নম্বর প্যাকেজে নদীতে ফেলা জিওব্যাগ ভেসে গিয়ে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে ঠিকাদাররা আর এলাকায় আসেননি, যার ফলে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাউবোর উপ-প্রকৌশলী মো. শামীম মিয়া জানান, নদীতে পানি ও স্রোতের তীব্রতা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষার কারণে নদীতে স্থায়ী কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও তীরে ব্লক তৈরির কাজ চলমান আছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কাথুরিয়া এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে জিওব্যাগ ভেসে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।