যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসাধারীদের নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এটি মূলত ২০১৫ সালে চালু হওয়া নিয়মটি বাতিল করে আগের কঠোর নীতিতে ফিরে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘Removing H-4 Dependent Spouses From the Classes of Noncitizens Eligible for Employment Authorisation’। বর্তমানে এটি দেশটির নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের সরকারি ওয়েবসাইট Reginfo.gov-এ ডিএইচএসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো নিয়ম নয়; এটি কার্যকর করতে ফেডারেল রেজিস্টারে ‘নোটিশ অব প্রপোজড রুলমেকিং’ প্রকাশ, জনগণের মতামত গ্রহণ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ইএডি থাকা যোগ্য এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর পরিসংখ্যান
- ভারতীয় নাগরিকত্বের হার: ২০১৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত অনুমোদিত এইচ-৪ ইএডি-ধারীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।
- লিঙ্গভিত্তিক অনুপাত: অনুমোদিত এইচ-৪ ইএডি-ধারীদের ৯৪ শতাংশই ছিলেন নারী, ফলে নতুন উদ্যোগের প্রভাব ভারতীয় নারীদের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে।
- এইচ-১বি আবেদনের হার: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের।
- প্রস্তাবিত ফি: ডিএইচএস নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে।
- চাকরি খোঁজার সময়সীমা: চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য এইচ-১বি কর্মীরা বর্তমানে যে ৬০ দিনের সময় পান, সেটিও বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এইচ-৪ ইএডি ব্যবস্থা বাতিলের চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে ডিএইচএস নির্দিষ্ট এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রীর কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল, যা পরে ২০২১ সালে প্রত্যাহার করা হয়। এবারের উদ্যোগটি সেই নীতিই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। এইচ-৪ কোনো কাজের ভিসা নয়; এটি এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার জন্য দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী ইএডির জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীর অনুমোদিত ফরম আই-১৪০ থাকা একটি শর্ত। এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এইচ-১বি ভিসার ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সময় বাড়ানো হলে ইএডির জন্য আবেদন করা যায়। ইএডি ছাড়া এইচ-৪ ভিসাধারীরা বৈধভাবে চাকরি করতে পারেন না, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ এবং ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ পান। নতুন এই প্রস্তাবটি ভারতীয় এইচ-১বি পরিবারগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এইচ-৪ ইএডির যোগ্যতা বাতিলের উদ্যোগটি এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরো কয়েকটি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত। সামগ্রিকভাবে, এইচ-১বি কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি আরো কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই প্রস্তাবকে। ডিএইচএস বলছে, এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে চালু হওয়া নিয়মটি বাতিল করে আগের নীতি ফিরিয়ে আনা হবে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এইচ-৪ ইএডির পুরোনো তথ্যও ভারতীয়দের বড় অংশগ্রহণের বিষয়টি দেখায়।



