নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, সেই সূচি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি এই প্রস্তুতির জন্য ঠিক কত সময় প্রয়োজন হবে, তা নিশ্চিত করতেও অন্তত এক মাস সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিক্ষাসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধি ও সচিবেরা বর্তমান বিদ্যমান পরিস্থিতির নানা দিক তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, বছরের বাকি সময়ে ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করতেই ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন। ইসির আগের ঘোষণা অনুযায়ী, গতানুগতিক সূচিতে ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ এবং আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন এই সম্ভাব্য সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য পুনরায় সময় বের করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনার ওপর সবাই মতামত দিয়েছেন, তা নিয়ে কমিশনে আবার বসব। এছাড়া অন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এবারের সম্ভাব্য সময়ের ব্যবধান অনেক সংক্ষিপ্ত, তাই দ্রুত সব ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নতুন করে কাজ করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেও কিছুটা সময় পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ে পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করা ঠিক হবে না, কারণ পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’ এদিকে পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কঠোর নজরদারি ও ধরপাকড় চালানো সত্ত্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অপতৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন করে ধরপাকড় অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকের পত্রিকার শিরোনাম – ইউনিয়ন পরিষদ ভোট এ বছর সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভোট করার জন্য প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা জানাতেও এক মাস সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসি গত রবি ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ জানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গত বুধবার থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ।



