রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের দায়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী শনিবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরদিন থেকেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মিছিলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গত কয়েক শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির কর্মীরা গুলশান এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে আসছিলেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে কয়েক শ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে মিছিল করেন। সেই সময় তাঁরা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলকারীরা গুলশান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও ককটেল ছুড়ে মারা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ এবং গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।



