ট্রাম্পপুত্রের ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি

, বিশ্ব

ট্রাম্পপুত্রের ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের এক বছর বয়সী ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাসের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের মাত্র একদিন পরই কোম্পানিটি জানায়, তারা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবস্থার জন্য একটি ‘সীমিত ক্রয়াদেশ’ পেয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে তারা। তবে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য বা কী ধরনের ড্রোন কেনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পাওয়ারাসের মালিকানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ রয়েছে। তারা ‘আমেরিকান ভেঞ্চারস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কোম্পানিতে মূলধন জুগিয়েছেন। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিপত্র অনুযায়ী, অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর এই নতুন কোম্পানিতে ট্রাম্পের ছেলেদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ অংশীদারি থাকতে পারে। ২০২৫ সালে ফ্লোরিডায় প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি খুব দ্রুতই বড় বিনিয়োগের মুখ দেখেছে।

পাওয়ারাসের সঙ্গে পাকিস্তানের এই চুক্তির বিষয়টি নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, মাত্র তিন মাস আগেই কোম্পানিটি ভারতের একটি প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তাদের ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া অধিকার প্রদান করেছে। বিষয়টি পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের অজানা ছিল না বলেই ধারণা করছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের অনেকে। এ ছাড়া পাকিস্তান ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছে, সেখানে ইসরাইলি সংশ্লিষ্টতাসম্পন্ন একটি কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কোম্পানিটির ইসরাইলি যোগসূত্র নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জিভ মারোম ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য। এ ছাড়া কোম্পানিটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাস্টিন গ্যান্স ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের মার্কিন শাখায় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা মারোমের আগের কোম্পানি ‘কাইজেন অ্যারোস্পেস’ বর্তমানে তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এমওইউয়ের বিষয়টি তারা সরাসরি উল্লেখ করেনি। পাওয়ারাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত ব্যবসায়িক চুক্তি নয়। এতে পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা নেই এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, কানাডাভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কুয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিলাল খান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, পাওয়ারাসের প্রদর্শিত ড্রোনগুলোর সক্ষমতা পাকিস্তান যে প্রযুক্তি এরই মধ্যে তৈরি করছে তার প্রায় কাছাকাছি। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কৌশলে কোম্পানিটির ভূমিকা কী হবে বা তারা কতটা নতুনত্ব আনতে পারবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্লোরিডাভিত্তিক পাওয়ারাস শিগগিরই নাসডাক তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যেই চুক্তিটি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।