ট্রাম্প-শি ঐতিহাসিক বৈঠক: প্রযুক্তির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ

, বিশ্ব

ট্রাম্প-শি ঐতিহাসিক বৈঠক: প্রযুক্তির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শীর্ষ সম্মেলন। ২০১৫ সালের পর মার্কিন মাটিতে চীনা কোনো প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর। বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে ঘিরে চলছে বিশাল আয়োজন। ম্যারিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিতে ট্রাম্প নিজে উপস্থিত থেকে শি’কে স্বাগত জানাবেন। এরপর হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে মার্কিন মেরিন সেনাদের স্যালুট ও ফ্লাইওভারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত নৈশভোজে ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, টিম কুক, সুন্দর পিচাই, স্যাম অল্টম্যান ও জেনসেন হুয়াংসহ সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দুই বিশ্বনেতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ। প্রযুক্তি খাতে বর্তমানে দুই পরাশক্তির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। চীন ইতিমধ্যে নিজস্ব মডেলে দক্ষতা অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার উলানকাব এলাকায় হুয়াওয়ে, বাইটড্যান্স ও ডিপসিকের মতো চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টরা শত শত ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ৯০ শতাংশ শিল্প ও সমাজে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। অপরদিকে, মার্কিন টেক নির্বাহীরা এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও ট্রাম্পের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে যে জয়ী হবে, সেই পুরো বিশ্ব শাসন করবে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংকে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো নিয়মিত সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যেকোনো বড় ধরনের এআই দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন অর্থ দপ্তর।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ট্রাম্প ও শি-এর মধ্যে এক বছর মেয়াদী সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ই নভেম্বর। এই সফরে উভয় নেতা চুক্তিটি আরও এক বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানোর একটি খসড়া রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। তবে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পকে ডেমোক্রেটদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প শি জিনপিংকে অযাচিত ছাড় দিচ্ছেন।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়েছে। ওয়াশিংটন চীনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার চাপ দিচ্ছে, কারণ চীন ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা। যদিও বেইজিং প্রকাশ্য সংঘাত এড়িয়ে পর্দার আড়ালে গোপনে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের তেল আমদানি কিছুটা কমিয়ে এনেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ এই আতিথেয়তা সত্ত্বেও দুই দেশের মূল ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিরোধের কারণে এই বৈঠক থেকে কোনো বড় ধরনের চূড়ান্ত সমঝোতা আসার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিকে যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিয়ে বেইজিংকে আটকানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে চীন অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও নিজস্ব মডেল বিকাশে নজিরবিহীন গতিতে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি চীনের অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার প্রত্যন্ত উলানকাব অঞ্চলের বিশাল সমতলভূমিতে আলুর ক্ষেত ঘেঁষে গড়ে উঠছে একের পর এক সুবিশাল ডেটা সেন্টার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই চীনকে পেছনে ফেলতে মার্কিন অগ্রগতিতে কোনো বিরতি টানতে নারাজ তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই চুক্তির আওতায় পাল্টাপাল্টি শুল্কের হার কিছুটা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজি হয়েছিল বেইজিং।