জি২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

, বিশ্ব

জি২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মস্কোকে পুনরায় বৈশ্বিক কূটনৈতিক কাঠামোর মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও সাংবাদিকদের জানান, এটি পুতিনের জন্য কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, পুতিন এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

পুতিন এই সম্মেলনে অংশ নিলে তা ২০১৯ সালের পর জি২০ সম্মেলনে তাঁর প্রথম সশরীর উপস্থিতি হবে। এছাড়া গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় বসার পর এটি হবে রুশ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে পুতিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন, যেখানে ট্রাম্প তাঁকে আলাস্কায় লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সে সময় দুই নেতা লিমুজিনে চড়ে আলোচনায় বসলেও ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো শান্তি বা সুরাহা আসেনি। এদিকে, ইউক্রেনে যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বুধবার কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রুবিও আরও বলেন, কেবল নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলে এমন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলে সৌহার্দ্য তৈরি হতে পারে, কিন্তু সমস্যার সমাধান আসে না। জটিলতা নিরসনে মতভেদ থাকা পক্ষগুলোর সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত থাকার চাপ দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। যদিও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয় দেশই একমত হয়েছিল, বাস্তবে হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে গঠিত জি২০ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতি ও পরাশক্তিগুলোর একটি প্রভাবশালী ফোরাম। এটি বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় ৮৫ শতাংশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ এবং মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই জোটের সদস্য হিসেবে ১৯টি দেশ—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নও এই জোটের অন্তর্ভুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে এই ফোরাম কাজ করে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুতিন এই সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাকে এমন লোকদের সঙ্গে বসতে হবে, যাদের সঙ্গে আপনার মতভেদ রয়েছে বা যাদের নিয়ে ঝামেলা আছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে মস্কো ও কিয়েভ একটি জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে, তবে তার পর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জি২০ (গ্রুপ অব টুয়েন্টি) হলো বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম।