নাটোরে এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে নাটোর সদর থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাত বছর বয়সী শিশুটিকে ঘটনার পর প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের একটি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন এবং শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত দম্পতিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নাটোর সদর থানার ওসি মো. মনসুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, শিশুটির ডান হাতের আঙুলের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল তার স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে শিশুটির বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
বুধবার রাতে বাড়ির পিকনিকে কনস্টেবলের মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়, যা পরে পারিবারিকভাবে মিটিয়ে ফেলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কনস্টেবল বাসায় ফিরে জোর করে শিশুটিকে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। কিছু সময় পর শিশুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসে। ভুক্তভোগী শিশুর ভাষ্যমতে, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার আঙুল কেটে ফেলা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে শিশুটির বিরুদ্ধে তার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের মৌখিক অভিযোগ তোলেন। এরপর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ এবং মেঝের একপাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশটি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।



