যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে যেভাবে টিকে গেলেন মোজতবা খামেনি

, বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে যেভাবে টিকে গেলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি আলেকাসির। কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। আলেকাসিরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই ভয়াবহ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী প্রাণ হারান।

আলেকাসির জানিয়েছেন, পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলার পরপরই মোজতবা খামেনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে তেহরানের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে হামলা চালানো হয় এবং মোজতবা খামেনি তৃতীয় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই হাসপাতালে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত এক নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর থেকে জনসমক্ষে তাকে আর দেখা যায়নি, এমনকি ক্যামেরা থেকেও তিনি নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন।

আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি আলেকাসির আরও জানান, মোজতবা খামেনি সেই সময় জানতেনই না যে তাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ৮ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর ধর্মীয় ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই তাকে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। আলেকাসির দাবি করেন, মোজতবা শারীরিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সুস্থ অবস্থায় আছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি নিজে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার নাম সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের এই ভোটাভুটিতে মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার বিপরীতে আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান মাত্র ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। আলেকাসিরের সাফ কথা, বর্তমান শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার কোনো সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতাবা খামেনি পান ৫০ ভোট।