বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কিনছে সরকার

, বাংলাদেশ

বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কিনছে সরকার

বোয়িংয়ের সাথে বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করার পরপরই এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তির বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহরে এই নতুন বিমানগুলো যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নিউইয়র্কের সেই সংবাদ সম্মেলনে বোয়িংয়ের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ এবং আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট। এছাড়াও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সরকার তার বিমানবহর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে উড়োজাহাজ কেনার ওপর জোর দিচ্ছে। বোয়িং ও এয়ারবাসের সাথে এই বিশাল অংকের ক্রয়চুক্তিগুলো দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রবাহ চলছে। ফেনীতে ১৫৪২ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

বিশ্বপর্যায়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটেছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সংঘাতের পর ৪৫০০ সেনা হারানোর বিনিময়ে অবশেষে ইরাক থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিরর্থক। এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে সরকার অস্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং এর পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।