সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অচলাবস্থা: দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা

, বাংলাদেশ

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অচলাবস্থা: দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চলমান সংকট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠক কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে না পেরে শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত আন্দোলনে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে, বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজের চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১০ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে।

বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। সিটি প্রশাসক আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তিসহ বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির আদেশ বাতিল করা। কিন্তু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চয়তা দিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ১৪ শিক্ষক অবরুদ্ধ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ–শিক্ষক, জানালা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে খাবার। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করার আশ্বাস দেন।

সিটি প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও প্রাথমিকভাবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাম্পাসে ফেরার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনের পক্ষে অনড় অবস্থান নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যদিও শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা কলেজের ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গতকাল রাত ১০টার দিকে মুক্তি দিয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন। কিন্তু যখন আমরা ক্যাম্পাসে গেলাম, তখন কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে সরতে রাজি হন, আবার কেউ বিরোধিতাও করেন। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে ক্লাসরুমে ফিরুক। এ অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিটি প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস ছাড়েন।

অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান জানান, গেটসহ বিভিন্ন স্থানে তালা দেওয়া থাকায় ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে কারো পক্ষে বাইরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আজ মঙ্গলবারও সেই অচলাবস্থা বহাল রয়েছে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা অথবা কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। প্রশাসনিক জটিলতা দূর না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।