ঘানার আক্রায় আয়োজিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের ৭ম বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পুষ্টিসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ করার যুগোপযোগী উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। ‘পরিবর্তনশীল পরিবেশের প্রেক্ষাপটে পুষ্টি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলন ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে যা ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
সমন্বিত সেবার গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পুষ্টি, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃ, নবজাতক এবং শিশুসেবাকে সমন্বিত করার জন্য যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার, টেকসই অর্থায়ন এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। তিনি আরও গবেষণার অপেক্ষায় না থেকে বিদ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুষ্টির সমন্বয় কেবল কাগজকলমে নয়, বরং সরাসরি সেবাদানের পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের গৃহীত উদ্যোগসমূহ
- প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
- প্রায় এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- অপুষ্টি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি খাদ্যব্যবস্থা, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ড. হায়দার জানান, বাংলাদেশে পুষ্টিকে পৃথক কোনো প্রকল্প হিসেবে না দেখে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সমন্বিত সেবার মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।



