রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক দোকানে চাহিদামত এক, দুই বা পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে তেলের দাম বাড়ানোর চাহিদাকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে। তাই কিছু বোতল সরিয়ে আলাদা সংরক্ষণ করি।’।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, নিয়মিত চাহিদার তুলনায় তারা ডিলারদের কাছ থেকে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাচ্ছেন। তার দৈনিক ১০ কার্টন তেলের প্রয়োজন হলেও ডিলার দিয়েছেন মাত্র ৪ কার্টন। ফলে নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে অনেক বিক্রেতা কৌশলে পণ্য সরিয়ে রাখছেন। বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট তৈরির ফলে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০-১৯৫ টাকায় এবং খোলা পাম তেলের দাম প্রায় ০.৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, খোলা বাজারে লিটারপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়েছে। আবার যতটুকু সরবরাহ আছে, তারও সব বিক্রেতারা প্রকাশ্যে রাখছেন না। ডিলারের থেকে পেয়েছি ৪ কার্টন; কিন্তু নিয়মিত গ্রাহকেরা চাইলে তো দিতেই হয়।
চলতি বছর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম সংকটের পর এপ্রিলের শেষ দিকে লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৯ টাকা। পরবর্তীতে জুলাই মাসের সংকটের পর ৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ৫ টাকা বাড়িয়ে দাম ২০৪ টাকা করা হয়। এদিকে, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বুধবার সিলেটে জানিয়েছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে সরকার তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন, ‘আমার তো বেশি টাকা নাই।
তেলের অস্থিরতার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারে ডিম, মুরগি ও মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এক হালি ডিম কিনতে ৫৫ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিটি ডিমের খুচরা মূল্য ১৫ টাকায় ঠেকেছে। এর পাশাপাশি গত দুই মাস ধরে বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে; রুই মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের এই বাড়তি দাম সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখেরটেক এলাকার আনসার হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাড়তি দাম তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত আয়ের অভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, অথচ বাজারদরে কোনো স্বস্তি দেখা যাচ্ছে না।



