দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির পর এখন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের পালা। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার একসাথে পাবেন।
পুরো বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে লগইন করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, যোগদানের তারিখ ও মূল বেতনের তথ্য প্রদান করতে হবে। এছাড়া অতীতে পাওয়া টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, বদলি বা পদোন্নতির অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্য যাচাই করতে হবে। এনআইডি না থাকলে চাকরির নথির তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবেন তারা।
তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সেগুলো যাচাই করবে এবং কোনো গরমিল থাকলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেতন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে। নতুন এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল বেতন কার্যকর হবে তিন ধাপে। গত ৩০ জুন ২০২৬-এর বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে সমন্বয় করে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন পাবেন কর্মীরা। এই বর্ধিত অংশ পরিশোধে সরকার চলতি অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই মূল বেতন কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে।
নতুন আদেশে পদোন্নতিহীন চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম ও পরবর্তী ছয় বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনে অর্থ বিভাগ কাজ করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতীতে একাধিক সুবিধা নিয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা মিলবে না। তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব নথিপত্র যাচাই করে চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।



