গাইবান্ধার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত না থেকেও তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধ এলাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়মিত পাঠদান করছেন। অভাবের কারণে যেসব শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের পড়ালেখার পথ সুগম করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি অভিভাবকদের কাছ থেকে সম্মানী হিসেবে প্রতিদিন মাত্র এক টাকা গ্রহণ করেন, যার ফলে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘এক টাকার মাস্টার’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৭৪ সাল থেকে নিরলসভাবে চালিয়ে আসা তার এই দীর্ঘ শিক্ষাসেবা এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। উদ্দেশ্য—দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যেন পড়ালেখা থেকে ঝরে না পড়ে। এজন্য সম্মানী হিসেবে যা নেন তা খুবই সামান্য। অর্থের অভাবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার দীর্ঘদিনের কাজ। নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই শিক্ষাসেবা সময়ের সঙ্গে গাইবান্ধায় ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে তাকে পরিচিত করে তোলে। তার কাছে পড়াশোনা করেছে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী।
সম্মাননা ও সরকারি স্বীকৃতি
- সম্মাননা প্রদানকারী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- অনুষ্ঠানের স্থান: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকা
- পুরস্কারের আর্থিক মূল্য: ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র
- অবসর সুবিধা: সরকারি অবসরভাতা প্রদানের ঘোষণা
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে লুৎফর রহমানের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করেন যে, লুৎফর রহমানকে এখন থেকে সরকারি অবসরভাতা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ শিরোনাম
- পরিকল্পিত নগরায়ণে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি
- এক টাকার মাস্টার: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক না হয়েও লুৎফর রহমান পাচ্ছেন অবসরভাতা
- বাংলাদেশি ভেবে দুজনকে বিএসএফের গুলি, পরে জানা গেল তারা ভারতীয় নাগরিক
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সর্বমোট ১০২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কৃষি ও প্রকৌশল খাতের শিক্ষকরা রয়েছেন। লুৎফর রহমান ছাড়াও বিশেষভাবে অবদান রাখা শিক্ষাব্রতীদের মধ্যে ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তটি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করল। লুৎফর রহমানের দীর্ঘদিনের এই আত্মত্যাগ ও নিবেদিতপ্রাণ সেবাকে রাষ্ট্র কর্তৃক মূল্যায়ন করায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার প্রসারে তার অসামান্য অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার মনে করে, লুৎফর রহমানের মতো শিক্ষাব্রতীরাই দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করছেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল আমন্ত্রিত অতিথি ও সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে লুৎফুর রহমান ওই এলাকার নদী পাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন।



