গ্র্যামি বয়কটের পথে স্ট্রে কিডস, যোগ দিলেন বিটিএসের কাতারে

, বিনোদন

গ্র্যামি বয়কটের পথে স্ট্রে কিডস, যোগ দিলেন বিটিএসের কাতারে

২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস আয়োজনের আগেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার প্রতিযোগিতায় নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচিত কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এর আগে একই অবস্থান নিয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। মূলত গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ ‘বেস্ট এশিয়ান পপ’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরোধিতা থেকেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন এই শিল্পীরা। রেকর্ডিং একাডেমির লক্ষ্য ছিল এশীয় পপসংগীতের শৈল্পিক উৎকর্ষকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, কিন্তু অনেক সংগীতশিল্পীর মতে, এটি এশীয় সংগীতকে মূলধারার বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এর আগে জুলাইয়ে বিটিএসও জানায়, তারা কোনো বিভাগেই নিজেদের গান বিবেচনার জন্য জমা দেবে না।

বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকদের আশঙ্কা, আলাদা বিভাগ তৈরির ফলে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার বা সং অব দ্য ইয়ারের মতো গ্র্যামির প্রধান বিভাগগুলোতে এশীয় শিল্পীদের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। স্ট্রে কিডসের রেকর্ড লেবেল জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্যান্ডটির সদস্যরা এর আগে আগস্ট মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, পুরস্কার জয়ের চেয়ে ভক্তদের সন্তুষ্টিই তাদের কাছে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বিটিএস এর আগে জুলাই মাসে স্পষ্ট করেছিল যে, তারা ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং সংগীতের নিজস্ব পরিচয়ে মূলধারার মূল্যায়ন চায়। আগস্টে নতুন অ্যালবাম ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’-এর প্রচার উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সদস্য হোয়াং হিয়ন-জিন বলেছিলেন, পুরস্কার বা রেকর্ড কখনোই তাঁদের লক্ষ্য ছিল না। তাঁদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ভক্তরা যেন খুশি ও সন্তুষ্ট থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত বাজারে স্ট্রে কিডসের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। নিউইয়র্কের গভর্নরস বল উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রিও ডি জেনিরোর রক ইন রিও উৎসবেও তারা প্রধান আকর্ষণ ছিল। ব্যান্ডটির সাম্প্রতিক অ্যালবামসহ মোট ৯টি অ্যালবাম যুক্তরাষ্ট্রের চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে, যা বিশ্বখ্যাত দ্য বিটলসের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। গ্র্যামির ভোটার হিসেবে এই ব্যান্ডের আট সদস্যই চলতি বছর তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যা এই বয়কটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অথচ এই নতুন বিভাগ নিয়ে আপত্তির অন্যতম কারণ হলো ভাষার শর্ত। কোরিয়ান গানগুলোর ক্ষেত্রে ইংরেজিনির্ভরতা থাকলে তা এই বিভাগে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ হারাবে, যা বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের মতো শিল্পীদের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নরস বল উৎসবে লর্ড ও এএসপি রকির সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেছে তারা।

সব বিতর্কের পরও গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। গ্র্যামির প্রধান হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের অনুষ্ঠানে নতুন এশিয়ান পপ বিভাগটি থাকছেই। তিনি জানান, এশিয়ার সংগীত জগতের বিভিন্ন পক্ষের সাথে একাডেমি আলোচনা করেছে এবং মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও এটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লাতিন সংগীতের ক্ষেত্রেও অতীতে ‘বেস্ট মিউজিকা উরবানা’ বিভাগ নিয়ে একই ধরণের বিতর্ক উঠেছিল। গ্র্যামি মনে করে এই বিভাগটি সময়ের চাহিদার প্রতিফলন, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এটি মূলধারা থেকে দূরত্ব তৈরি করবে। এটিজ ব্যান্ডের নেতা কিম হং-জুং এরই মধ্যে বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর গ্র্যামির চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে, কোন কোন এশীয় শিল্পী এই বিতর্কিত পথে হাঁটছেন। তবে ঘোষণার পর থেকেই সংগীতশিল্পীদের একাংশ এর সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ বিভাগটি না রাখার পক্ষে মত দিলেও অনেক সংগীতশিল্পী নতুন বিভাগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।