বগুড়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মামলা, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ৫

, বাংলাদেশ

বগুড়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মামলা, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ৫

বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়গামী এক স্কুলছাত্রীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণের চার দিন পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার চকপোতা গ্রামে প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিয়াদসহ পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের চার দিন পর দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আঁখি মনিকে (১৬) উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের ১ দিন না যেতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার রিয়াদ হোসেনের বাড়ি থেকে আখি মনিকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী স্থানীয় মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০) দীর্ঘ দিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি রিয়াদের পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়, যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে রওনা হলে চকপোতা গ্রামের জামাদারের দোকানের সামনে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে মেয়েটি বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরপর শনিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয় আখি মনি। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন রিয়াদ হোসেন, তার মা ফরিদা বেগম (৪০), একই এলাকার বাসিন্দা হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই জিহাদ হোসেন (২৫) এবং কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, এজাহারের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।