বাংলাদেশ রেলওয়ের পাঠানো ভুল বার্তার খেসারত দিতে হলো সিলেটের শতাধিক ট্রেনযাত্রীকে। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) ট্রেনটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ১০টায় ছাড়ে, অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোবাইল ও অনলাইন বার্তায় যাত্রীদের জানানো হয়েছিল যে ট্রেনটি এক ঘণ্টা বিলম্বে রাত ১১টায় যাত্রা শুরু করবে। এই বার্তার ওপর নির্ভর করে অনেক যাত্রী স্টেশনে পৌঁছাতে দেরি করায় ট্রেনটি ধরতে ব্যর্থ হন। এই মেসেজের ওপর ভরসা করে অনেক যাত্রী ১১টার সময়কে কেন্দ্র করে সিলেট স্টেশনে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেন। শিডিউল সমস্যার কারণে মেসেজে আগেই যাত্রীদের জানানো হয়েছিল ভোগান্তি না পোহাতে। তবে বাস্তবে ট্রেনটি বিলম্ব না করে তার নির্ধারিত সময় রাত ১০টায়ই সিলেট স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
ট্রেন মিস করা ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী মিনহাজ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ ভুল মেসেজ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলেছে। মাঝরাতে অন্য ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা এবং পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর এই ভোগান্তির দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এখন মাঝরাতে অন্য ট্রেনে চেপে কুলাউড়ায় গিয়ে আবার ওই ট্রেন ধরতে হবে।
এদিকে, ট্রেনটি ধরতে না পারা শতাধিক যাত্রী প্রতিবাদ জানালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। উদয়ন এক্সপ্রেসটি রাত ১১টা ১৪ মিনিটে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের সুবিধার জন্য সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা থামিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের মাধ্যমে অনেক যাত্রীকে কুলাউড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ জানান, আগের দিন শুক্রবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকায় শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছিল। মূলত সেই বিলম্বের বিষয়টি যাত্রীদের অবহিত করতে গিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে উদয়ন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই সিলেট ছাড়ে। সবশেষে রাত ১টার পর কুলাউড়া স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়।



