জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী রাজু আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম কবির আসামিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক অজ্ঞাত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপুসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে শুনানি করেন। বিচারক শুনানি শেষে প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে মোশতাক আহমেদকে এবং মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকা থেকে কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী এবং মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর এই রিমান্ডের আদেশ এলো।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়িতে ওরিয়েন্টাল কোভান অ্যাপার্টমেন্টের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর গুলি চালানো হয়। সে সময় জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী ২৪ বছর বয়সী রাজু আহমেদ মিছিলে গুলিবর্ষণের সময় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট রাজুর বাবা মামলাটি দায়ের করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ম্যানেজার শাহাদাত জানতে পারেন, রাজু আহমেদ (২৪) গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন।



