যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রথাগত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বৃহৎ ও উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বাজারে পণ্য রপ্তানির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনে রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য। গত বছর এই অংক ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।
ভারতের বাজারেও রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এছাড়া জাপানে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে; গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার। সামগ্রিকভাবে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার। দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন নির্দেশনা। ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণবোমা’ হামলার হুমকি দিয়ে ইমেইল।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ভবিষ্যৎ কৌশল
- বাজার বহুমুখীকরণ: চীন ও ভারতের মতো বড় ভোক্তা বাজারে পণ্য রপ্তানি বাড়াতে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
- পণ্য বৈচিত্র্য: দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, ওষুধ, গৃহসজ্জার বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
- মানদণ্ড ও সরবরাহ: আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান সুসংহত করতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা, আমদানিকারক দেশের বিধিবিধান পরিপালন এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
- সহায়তা কার্যক্রম: ইপিবি বাণিজ্য মেলা, বাজার অনুসন্ধান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য থাকলেও শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যা নিরসনে কাজ চলছে। পাশাপাশি চীনে পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ বাড়িয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। জাপানের বাজারে হালকা প্রকৌশল পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এশীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানি আয় আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এক টাকার মাস্টার: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক না হয়েও লুৎফর রহমান পাচ্ছেন অবসরভাতা।



