রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে আজ শনিবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তা স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল।
পরীক্ষা স্থগিতের নেপথ্যে
- স্থগিতের কারণ: পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।
- অধিদপ্তরের বক্তব্য: প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- নতুন তারিখ: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের ভেতর পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে শিক্ষকরা হঠাৎ পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেন। অনেক প্রার্থীই পরীক্ষার আগমুহূর্তে এই সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘোষণার প্রতিবাদে রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করা হয়। বেলা দুইটা পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ চলাকালে সেখানে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে নীলক্ষেত মোড়ের অবরোধ ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী ছিল এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিম বলেন, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়ক ও সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া সড়কে তিনি অবরোধ দেখেন।
পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা
- শাহবাগ এলাকা: বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল খালেক জানান, পরীক্ষার্থীদের অবরোধে ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বেলা দুইটা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের অবস্থান দেখা গেছে।
- নিউমার্কেট এলাকা: দুপুর ১২টার দিকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করা হলে নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, পরীক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর একদম আগে এভাবে বাতিল করায় তাঁরা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং এর প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। আরেকজন বলেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষকেরা বললেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তাই বাতিল।



