ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাব খাওয়া কমানোর পরামর্শ চসিক মেয়রের

, বাংলাদেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাব খাওয়া কমানোর পরামর্শ চসিক মেয়রের

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে গিয়ে ডাব খাওয়া কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত ডাব খাওয়ার কারণে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সামনে ডাবের খোসার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। জমে থাকা এসব খোসায় পানি আটকে এডিস মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। তা ছাড়া এডিস মশা ডাবের ভেতরের মিষ্টি অংশ ও পানি বেশি পছন্দ করে। বর্তমানে ডাব খাওয়ার প্রবণতা এতোটাই বেড়েছে যে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে গেলে ডাবের খোসা ও উচ্ছিষ্টের স্তূপ দেখা যায়।

রোববার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ডিভিশনাল ট্রেনিং অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক চিকিৎসকদের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. জসিম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মনির-উজ-জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-আজিজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন। তাছাড়া নগরে প্রধান হাসপাতালগুলো অবস্থিত হওয়ায় জেলার রোগীদের চাপও চসিকের ওপর পড়ছে।

মেয়র শাহাদাত হোসেন চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কথায় কথায় রোগীদের ডাব বা মাল্টা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ ডাবের বদলে খাবার স্যালাইন খেলেই কাজ হয়। অনর্থক ডাব খেয়ে কৃত্রিমভাবে বাজারে এর দাম বাড়ানো অনুচিত। সম্প্রতি নগরীতে এনসিপি নেতাকর্মীদের মশারি টাঙিয়ে করা প্রতিবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়া সহজ, কিন্তু এতে ডেঙ্গুর প্রকৃত সমাধান আসে না।

চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে চসিক মেয়র বলেন, চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ২৩ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন, যার মধ্যে চসিক এলাকায় ১০ জন এবং জেলায় ১৩ জন। জেলা অংশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে সীতাকুণ্ডে, যা চসিকের সীমানার বাইরে। সীতাকুণ্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের অবহেলার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হলেও চসিক থেকে সেখানে ওষুধ পাঠানো হয়েছে। অথচ তথ্য না জেনে চসিকের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অথচ ভুল তথ্যের কারণে অনেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন।

চসিক এলাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ঢাকার তুলনায় অনেক কম উল্লেখ করে মেয়র জানান, এ বছর চসিক এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫১৭ জন এবং মারা গেছেন ১০ জন। অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ১১৬ জন মারা গেছেন। চসিক এলাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত ‘বিটিআই’ লার্ভিসাইড প্রয়োগ করায় প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, এডিস মশা দিনের বেলায় বেশি কামড়ায়, তাই সকালে বিশেষ করে ফজরের পর যারা ঘুমান, তাদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর আক্রান্তের হার অনেকটাই কমেছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’ স্লোগান তুলে হাশমিরা হায়দার চৌধুরীর উদ্যোগে মশারি টাঙিয়ে এক গণশুনানি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের ব্যর্থতার অভিযোগ এনে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিনও উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের রবিবারের বক্তব্যকে ওই প্রতিবাদেরই জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।