গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের স্বীকৃতি না পাওয়ার জেরে বিষপানে এক তরুণ ও তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতরা হলেন আল আমিন (২২) এবং তাসলিমা আক্তার তানজমিন (১৯)। মৃত্যুর ঘটনার একদিনের ব্যবধানে তাদের দুজনের প্রাণহানি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেমিকার মৃত্যুর একদিন পর আজ মারা যায় যুবক আল আমিন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা।
পুলিশ ও স্থানীয় তথ্যমতে, ফেসবুকের মাধ্যমে আল আমিনের সঙ্গে তাসলিমা আক্তারের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল আমিন উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর এলাকার আজাদুল ইসলামের ছেলে। তাসলিমা আক্তার একই উপজেলার ডিমলা পদুমশহর গ্রামের সাইফুল আকন্দের মেয়ে। তাসলিমা আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তার সংসারে দুই বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর নাম ফরহাদ হোসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিজেদের সম্পর্ক গভীর হওয়ায় তাসলিমার পূর্বের বিয়ের বিষয়টি আল আমিন জানতে পারলেও তারা সম্পর্কে অটুট ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর আল আমিন তাসলিমাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের মাধ্যমে সংসার করার ইচ্ছার কথা জানান। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সেই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু আল আমিনের পরিবার তাতে আপত্তি জানিয়ে দুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। কিন্তু সেদিনও তার পরিবার তাদেরকে প্রত্যাখান করেন।
এ ঘটনার তিনদিন পর ১২ অক্টোবর সকালে তারা পুনরায় আল আমিনের বাড়িতে যান। সেখানেও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তারা ইঁদুর মারার বিষ (গ্যাস ট্যাবলেট) পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাসলিমার মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় আল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৬টায় তারও মৃত্যু হয়েছে। আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ইসলামী আন্দোলন নেতার সব পদ স্থগিত।
অন্যদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, গত ৯ অক্টোবর বাড়িতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তারা দুজনে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়ের স্বীকৃতির আশায় ১২ অক্টোবর আবার তারা বাড়িতে যান। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাটি এলাকায় একদিকে শোক ও অন্যদিকে চরাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৯ অক্টোবর আল আমিন বাড়িতে গিয়ে বিতাড়িত হয়ে ফিরে এসে পরে তারা দুজনে বিয়ে করেন।
ঘটনার বিষয়ে ওসি দুরুল হোদা জানান, বিষপানের ওই ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশের তদন্তে আল আমিন ও তাসলিমার বিয়ের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাসলিমা যে পূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, তা জানা গেছে। অকাল এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার পাশাপাশি চলমান বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় খবরের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত পাঁচ ধাপের ভোটগ্রহণের ঘোষণা, যা আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু হবে। এছাড়া প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বগতি ও ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার রেশ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের খবরও নিয়মিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে।



