খালুকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি: শিক্ষক বরখাস্ত

, বাংলাদেশ

খালুকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি: শিক্ষক বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার এক প্রাথমিক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। আব্দুর রশিদ (৪০) নামের ওই শিক্ষক খালুকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে মিথ্যে তথ্য দিয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ে প্রমাণিত হওয়ার পরই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও চলছে।

তদন্ত অনুযায়ী, কামারখন্দ উপজেলার দশসিকা গ্রামের রুস্তম আলী ও রেহানা বেগমের সন্তান আব্দুর রশিদ সরকারি চাকরির খাতিরে নিজের বাবার নামের বদলে বীরমুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর নাম ব্যবহার করেন। কাশেম আলী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৬ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর আব্দুর রশিদ শিয়ালকোল ইউনিয়নের ছোট হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে তাকে সেখানে চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারি চাকরি পেতে পিতার স্থলে খালু বীরমুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলী ও মাতার স্থলে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেন।

শুধু আব্দুর রশিদ নন, তার ভাই সালেহ আকরামও একইভাবে খালুকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীরমুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর একমাত্র সন্তান আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, তার আর কোনো ভাই-বোন নেই, অথচ প্রতারক চক্রটি দীর্ঘ দশ বছর ধরে তার বাবার নাম ব্যবহার করে কোটার সুবিধা নিচ্ছে। আমেনা খাতুন এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু বরখাস্ত নয়, কঠোর আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অথচ তারা আমার বাবার নাম ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন।